রিয়েল এস্টেট বনাম শেয়ার বাজার : কেন রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ সবচেয়ে লাভজনক?
বিনিয়োগ মানে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর উপরই নির্ভর করে আপনি বিনিয়োগে লাভবান হবেন নাকি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। অনেকেই ভাবেন, শেয়ার বাজারে দ্রুত লাভ করা সম্ভব, আবার কেউ কেউ স্থায়ী সম্পদের জন্য রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগকে বেছে নেন। আজকের এই আর্টিকেলে জানব শেয়ার বাজারের তুলনায় রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ সবদিক থেকে কেন লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত।
রিয়েল এস্টেট
রিয়েল এস্টেট বলতে জমি ও জমির সাথে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক ভবনকে বোঝায়। আর রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ হলো জমি, ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক ভবন কেনা-বেচা সংশ্লিষ্ট বিষয়। যাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আছে আর সে অর্থকে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে হালাল পথে দীর্ঘমেয়াদী মুনাফা অর্জন করতে চান- তাদের জন্য এটি বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র। এটি আপনাকে ১০০ ভাগ মূলধন সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেবে আর সেই সাথে মুনাফা তো থাকছেই। খুব স্বাচ্ছন্দ্যে তাই অনেকেই বিনিয়োগ করে।
শেয়ার বাজার
শেয়ার মানে হলো কোনো একটি কোম্পানির মালিকানার অংশ বিশেষ। অর্থাৎ মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশে কোনো কোম্পানি যখন তার মোট মূলধনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে সাধারণ জনগণের কাছে বিক্রি করে, তখন প্রত্যেকটি অংশকে একটি শেয়ার বলা হয়। শেয়ার কেনা বা বেচা যায়। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ মানে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনে তাদের লাভে অংশীদার হওয়া।
কেন রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করবেন
মূল্য সবসময় ঊর্ধ্বমুখী
রিয়েল এস্টেটের দাম সময়ের সাথে বাড়তেই থাকে। কখনো কমে না। ঢাকা শহরে গত ২০ বছরে জমির দাম বেড়েছে ২৭ গুণেরও বেশি। একটি জমি বা ফ্ল্যাটের দাম কমে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
নিয়মিত আয়
প্রপার্টি ভাড়া দিয়ে মাসিক আয় করা যায়- যা শেয়ার বাজারে সম্ভব নয়। অনেক বিনিয়োগকারী ফ্ল্যাট কিনে বছরে ৫–৭% পর্যন্ত রেন্টাল ইনকাম পান।
দৃশ্যমান সম্পদ
শেয়ার কেবল কাগজ বা ডিজিটালে থাকে, কিন্তু রিয়েল এস্টেট হাতে ধরা যায়। এই দৃশ্যমান সম্পদ মানসিক নিরাপত্তা দেয় অনেক বেশি। কিন্তু শেয়ার বাজারে তা পাওয়া যায় না।
ঝুঁকি কম
রিয়েল এস্টেট বাজার শেয়ার বাজারের মতো ওঠানামা করে না। অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব খুব কম পড়ে।
মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা
যখন দ্রব্যমূল্য বাড়ে, তখন সম্পত্তির দামও বাড়ে। ফলে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থেকে আপনার সম্পদকে রক্ষা করে।
রিয়েল এস্টেটের সীমাবদ্ধতা
রিয়েল এস্টেটে সুবিধার পাশাপাশি যে অসুবিধাটি বেশি পীড়া দেবে তা হলো আপনি চাইলেই যখন-তখন বিক্রি করতে পারবেন না। এর জন্য সময় লাগে। সময় লাগলেও আপনি আপনার মূলধনসহ মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।
কেন শেয়ার বাজার তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ
-
শেয়ার বাজারে দাম প্রতি মুহূর্তে ওঠানামা করে। বড় লাভের পাশাপাশি বড় ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
-
ভুল সময়ে শেয়ার কিনলে বা বিক্রি করলে পুরো মূলধন হারানোর ঝুঁকি থাকে।
-
রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা, এমনকি গুজবেও শেয়ার বাজার ধসে যেতে পারে।
-
এতে কোনো দৃশ্যমান সম্পদ নেই, তাই মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা কম।
রিয়েল এস্টেট ও শেয়ার বাজারের তুলনামূলক চিত্র:
|
বিষয় |
রিয়েল এস্টেট |
শেয়ার বাজার |
|
ঝুঁকি |
কম |
বেশি |
|
সম্পদের ধরন |
দৃশ্যমান |
অদৃশ্য |
|
মূল্যবৃদ্ধির গতি |
ধীরে ধীরে কিন্তু স্থায়ী |
দ্রুত কিন্তু অস্থির |
|
নিরাপত্তা |
মুনাফাসহ মূলধনের নিরাপত্তা আছে |
মূলধনের কোনো নিরাপত্তা থাকে না |
|
নিয়মিত আয় |
ভাড়া থেকে আসে |
ডিভিডেন্ট থাকলেও অনিশ্চিত |
|
মানসিক প্রশান্তি |
মূলধন হারানোর ভয় থাকে না বলে মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকে |
মূলধন হারানোর ভয় থাকে বলে সব সময় মানসিক দুশ্চিন্তা থাকে |
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের একটি বাস্তবসম্মত হিসাব
রিয়েল এস্টেটে বা ল্যান্ড শেয়ারে বিনিয়োগের অংকটি দেখলে পরিষ্কার বুঝতে পারবেন আপনার কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয়।
ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ
ধরুন, ল্যান্ড শেয়ারে একটি ফ্ল্যাট কিনলেন
প্রতি স্কয়ার ফিট ৬,০০০ টাকা আর অ্যাপার্টমেন্ট সাইজ ২০৫০ স্কয়ার ফিট;
ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ: ৬,০০০*২০৫০= ১,২৩,০০০০০ টাকা;
অতিরিক্ত খরচ: ১০,০০০০০ লাখ টাকা (স্থানভেদে)
তাহলে আপনার মোট ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ: ১২৩,০০০০০ + ১০,০০০০০ = ১৩৩,০০০০০ টাকা। ( এই পরিমাণ টাকা আপনাকে একবারে বিনিয়োগ করতে হবে না )
ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মূল্য এবং রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI)
বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ যত বেশি সম্পন্ন হবে ততই এর মূল্য বাড়বে। ধরুন, ২ বছর পর এর মূল্য প্রতি স্কয়ার ফিটে ২,৫০০ টাকা বেড়ে হবে ৬,০০০ + ২,৫০০ = ৮,৫০০ টাকা।
প্রপার্টির মোট মূল্য: ৮,৫০০*২০৫০ = ১৭৪,২৫,০০০ টাকা
অর্থাৎ রিটার্ন: ১৭৪,২৫,০০০ টাকা
রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট: ৪১,০০০০০ টাকা
তাহলে ২ বছরে মুনাফা পাচ্ছেন ৪১,০০০০০ টাকা।
এখন আপনি নিজেই উপলব্ধি করে দেখুন আসলেই আপনার রিয়েল এস্টেটে কি বিনিয়োগ করা উচিত?
শেষ কথা
আপনি যদি আপনার মূলধন দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে ফেরত পেতে ইচ্ছুক হোন তবে শেয়ার বাজারের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি না নিয়ে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করাই আপনার বুদ্ধিমানের কাজ। রিয়েল এস্টেট কেবল মুনাফা দেয় না, এটি দেয় নিরাপত্তা, মানসিক নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতের জন্য এক বাস্তব সম্পদ- যা বিক্রি করে আপনি আপনার মূলধনসহ মুনাফা পেতে পারেন।
Special Offer

Get a free consultation and 15% off on processing fees when you apply for a home loan through us.