ভবন নির্মাণের আগে সয়েল টেস্ট কেন জরুরি?
আপনি যদি কোনো জমির মালিক হোন কিংবা কোনো ডেভেলোপার কোম্পানিতে কাজ করেন তবে সয়েল টেস্ট কি তা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সয়েল টেস্ট যেহেতু ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট তাই এটি সম্পর্কে আপনার সচেতন হওয়া জরুরি। আজকের এই লেখায় মূলত সয়েল টেস্ট কি? এটি কেন করা প্রয়োজন? এটি কিভাবে করে? প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সয়েল টেস্ট কী?
সয়েল টেস্ট হলো সহজ কথায় মাটি পরীক্ষা করা। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাষায় বিল্ডিংয়ের ভূনিম্নস্থ মাটির পরীক্ষা করাকে ‘সয়েল টেস্ট’ বলে। মূলত যেকোনো বিল্ডিং নির্মাণের আগে এটি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১লা জুলাই ২০২৫ইং (মঙ্গলবার) তারিখে বসুন্ধরায় N ব্লকে সেলমন ডেভেলপার্স লিমিটেড-এর Salmon US Tower এর Soil Test প্রোগ্রামটি সম্পন্ন হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মেহেরাজ উদ্দিন ফয়সাল সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্মাণের আগে সয়েল টেস্ট কেন আবশ্যক?
মূলত যেকোনো বিল্ডিং নির্মাণের আগে ভূনিম্নস্থ মাটির ভারবহন ক্ষমতা জানার ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট করা হয়। এর মাধ্যমে সঠিক ফাউন্ডেশন ডিজাইন এবং সঠিক ব্যয় নির্ধারণ করা যায়। বিল্ডিং নির্মাণে মাটি পরীক্ষা ছাড়া ফাউন্ডেশন ডিজাইন সম্ভব নয়। যেকোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট জরুরি।
আপনি যদি আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, হাসপাতাল, শপিং কমপ্লেক্স, ব্রিজ-কালভার্ট, সড়ক-মহাসড়ক, রেললাইন, এয়ারপোর্ট, পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদি নির্মাণ করতে আগ্রহী হোন তবে এসবের ডিজাইনের জন্য সয়েল টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উঁচু-নিচু যেকোনো জায়গায় কোনো কিছু নির্মাণ করতে চাইলে অবশ্যই মাটি পরীক্ষা করতে হবে।
অনেক প্রকৌশলীদের মতে, বাংলাদেশের মাটির নিরাপদ ভার বহনের ক্ষমতা বর্গমিটারে ৯-১০ টন। তাই এক, দুই তলা ভবনের জন্য তারা সয়েল টেস্টের কথা বলেন না। তবে তিনের অধিক ভবনের জন্য সয়েল টেস্ট করানো জরুরি। ভবনের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তাই সয়েল টেস্টের দরকার।
সয়েল টেস্ট কীভাবে করা হয়?
যেখানে কনস্ট্রাকশন হবে সেখানকার মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টের পদ্ধতিসমূহ:
- যেখানে স্থাপনা তৈরি হবে তা পরিদর্শন ও জরিপ করা।
- ফিল্ড অনুযায়ী বোরিং সংখ্যা এবং স্থান নির্বাচন করা। সেই সাথে বোরিং কাজ সম্পন্ন করা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী বোরিং গভীরতা নির্ধারণ।
- প্রত্যেক বোরিং স্থানে মাটির অক্ষত-বিক্ষত নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা।
- বোরিং কিংবা ড্রিলিংয়ের সাহায্যে ৫ ফুট অন্তর মাটির এসপিটি ভ্যালু নির্ণয় করা। সেই সাথে মাটির নিরাপদ ভারবহন ক্ষমতা বের করা।
- ফিল্ড টেস্ট ও ল্যাব টেস্টেও ফলাফল বের করা।
- সবশেষে সয়েল টেস্টের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা। আর সেই রিপোর্ট অনুযায়ী বাড়ির ফাউন্ডেশন সম্পর্কে যথাযথভাবে মন্তব্য করা।
N value এর ভ্যালু সম্পর্কিত তথ্য:
- N value 2 বা এর কম হলে Very Soft। সেক্ষেত্রে মাটির ভার বহন ক্ষমতা প্রতি বর্গমিটারে মাত্র 2 টন।
- N value 2-5 হলে Soft মাটি। এই ভ্যালু অনুযায়ী ভার বহন ক্ষমতা 2-5 Ton/ Sqm.
- N value 5-9 হলে Medium মাটি। এই ভ্যালু অনুযায়ী ভার বহন ক্ষমতা 5-10 T/ Sqm
- N value 9-17 হলে Stiff বা শক্ত মাটি। এই ভ্যালু অনুযায়ী ভার বহন ক্ষমতা 10-20T/ Sqm
- N value 17-33, Very Stiff বা খুবই শক্ত মাটি। এই ভ্যালু অনুযায়ী ভার বহন ক্ষমতা 20-40 T/ Sqm
- N value 33 এর উপরে হলে Hard বা খুবই কঠিন মাটি। এই ভ্যালু অনুযায়ী ভার বহন ক্ষমতা বর্গমিটার 40 Ton এর উপরে। (Ref: BNBC, Soil & Foundation)
সয়েল টেস্টকালীন সতর্কতাসমূহ:
- হ্যামারের ওজন ৬৩.৫ কেজি কিনা নিশ্চিত করা। এটি ৩০ ইঞ্চি উচ্চতা থেকে ড্রপিং হচ্ছে কিনা?
- প্রতি ৫ ফুট পরপর আলাদা আলাদা প্যাকেটে নমুনা মাটি সংরক্ষণ করছে কিনা?
- N Value সঠিকভাবে গণনা ও লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে কিনা?
উপরের তথ্য থেকে একথা স্পষ্ট যে, যেকোনো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সয়েল টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর উপর নির্ভর করে ভবনের ডিজাইন করা হয়। আর এর সাথে জড়িত রয়েছে ডিজাইনকৃত ভবন নির্মাণের অনুমতি যা সিটি কর্পোরেশন বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিতে হয়।
Special Offer

Get a free consultation and 15% off on processing fees when you apply for a home loan through us.